বৈরাতী উচ্চ বিদ্যালয়
বিদ্যালয়ের প্রবেশ তোড়ণ
পঞ্চগড়ের প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি নাম বৈরাতী উচ্চ বিদ্যালয়। বিদ্যালয়টি অবস্থিত পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র পাঁচপীর বাজারের পাশেই। এ প্রতিষ্ঠানটির অনেক সুনাম রয়েছে বিভিন্ন দিক থেকে। যেমন, খেলা-ধুলা, স্কাউটিং,ব্যতিক্রমী নানা আয়োজন এছাড়া ভাল মানের শিক্ষার ব্যপারে কোন সন্দেহ নেই।
এখন প্রতিষ্ঠাকালের কিছু কথা জেনে আসা যাক।
প্রতিষ্ঠানটি প্রথমে জুনিয়র স্কুল হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও এখন এটি উচ্চ বিদ্যালয় হিসেবে চালু আছে। বৈরাতী নামটি এসেছে বৈরাতী মৌজার নাম থেকে।
১৯৭১ সালের কিছু আগে জুনিয়র স্কুল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় বৈরাতী মৌজার নাগরা কুরা এলাকায়। জমি দান করেন কাজী আলাউদ্দিন প্রধান। প্রধান শিক্ষক ছিলেন উমেশ চন্দ্র, সহকারী শিক্ষক হিসেবে ছিলেন বুলু মাষ্টার, দীনবন্ধু, নর হরি। সব মিলে ছাত্র/ছাত্রী ছিল প্রায় ৬০ জন।
কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে এটিকে স্থানান্তরিত করে আনা হয় পাঁচপীর বাজারের কাছে যা এখনও একই স্থানে স্বগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে এবং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে।কাজী আলাউদ্দিন প্রধানের দান করা জমিতে নতুন অবস্থানে নতুন অবকাঠামোতে বিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করে। নতুন করে প্রধান শিক্ষক হন আব্দুর রহিম প্রধান। সকারী শিক্ষক ছিলেন ৪ জন,বুলু মাষ্টার, দীনবন্ধু, নর হরি, মোজাহার হোসেন এবং মহসীন আলী মৌলভী। অবকাঠামো বলতে ছিল চারটি(৪) শ্রেণী কক্ষ যা ছিল বাঁশের বেড়া দিয়ে নির্মিত এবং একটি অফিস কক্ষ।
দিনে দিনে ছাত্র/ছাত্রী সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং নতুন দক্ষ শিক্ষক/শিক্ষিকা নিয়োগ করা হয়।
শুধু তাই নয় বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে নতুন ভাবে জমি দান করেন জনাব মোঃ হুমায়ুন কবির প্রধান, চেয়ারম্যান,১০ নং পাঁচপীর ইউনিয়ন পরিষদ।
এই জমির উপর বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়েছে।
বিদ্যালয়টি এম পিও ভুক্ত হয় ১৯৮৫ সালের জুলাইতে। যার EIIN কোডঃ১২৫৮৮২ এবং প্রতিষ্ঠান কোডঃ ৮৫৮৮ ।
প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাবু বিষ্ণু কুমার বর্মন।
বর্তমানে বিদ্যালয়টি এডহক কমিটি দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে শিক্ষক সংখ্যা নয় জন(০৯), শিক্ষিকা দুই(০২) জন ,লাইব্রেরীয়ান একজন(০১, এবং ভলান্টিয়ার শিক্ষক দুই জন(০২)। বিদ্যালয়ের রয়েছে একটি
বিশাল খেলার মাঠ, একটি ক্যান্টিন। প্রতি বছর অনুষ্ঠিত হয় আন্তঃবিদ্যালয় ফুটবল, ভলিবল এবং বার্ষিক ক্রিড়া ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।এখন বিদ্যালয়টিতে বিজ্ঞান ও মানবিক বিভাগ চালু আছে। শিক্ষকগণ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ছাত্র/ছাত্রীদের পাঠদান করান এবং প্রতি সপ্তাহে টিউটোরিয়াল পরিক্ষা নিয়ে থাকেন এবং মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে নিয়মিত ক্লাশ নেয়া হয়। এছাড়া বিজ্ঞান বিভাগের জন্য রয়েছে বিজ্ঞানাগার।
মোট ছাত্র/ছাত্রী সংখ্যা প্রায় ১০০০ জন। ২০১৭ তে জে,এস,সি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ১৩৮ জন। এস, এস, সি তে অংশগ্রহণ করবে প্রায় ২০০ জন।প্রতি বছর বিদ্যালয়টি থেকে জিপিএ ৫.০০ পাওয়া ছাত্র/ছাত্রীর সংখ্যাও কম না। ২০১২ তে এস,এস,সি পরীক্ষায় যার সংখ্যা ছিল ১৪ জন। যার ধারাবাহিকতা এখনও বজায় রেখেছে বিদ্যালয়টি। প্রত্যন্ত এলাকার একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে যা সবার নজর কারে।
সব চেয়ে মজার ব্যপার হচ্ছে বিদ্যালয়টিতে পড়তে আসা ছাত্র/ছাত্রী এতটাই বেশি যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা চালু করে। বিদ্যালয়টিতে শুধু বোদা উপজেলারই না, পাশের উপজেলা গুলো থেকেও অনেক ছাত্র/ছাত্রী পড়াশোনা করতে আসে।
শিক্ষার পাশাপাশি খেলা ধুলাতেও পিছিয়ে নেই বিদ্যালয়টি,
- ২৫ তম জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসা ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় সাঁতারে পুরস্কার প্রাপ্ত।
- ৩২ তম উপ অঞ্চল সাঁতারে শ্রেষ্ঠ স্কুল ও খেলোয়াড় পুরস্কার প্রাপ্ত।
- স্কাউটে পঞ্চগড়ের প্রথম একজন প্রেসিডেন্ট স্কাউট পুস্কার প্রাপ্ত(সানোয়ার হোসেন)।
- আরো কিছু পুরস্কারের ছবিঃ
এছাড়া ২০১২ সালে ইতিহাস ও ঐতিহ্য সন্ধানে পঞ্চগড়ে সাইকেল ভ্রমণের আয়োজন করে বৈরাতী উচ্চ বিদ্যালয়ের স্কাউটস দল। এরকম ব্যতিক্রিমী আয়োজন সবার নজরে আসে এবং
জনাব জহুরুল ইসলামের ইউ এন ও স্যারের সাথে সাইকেল ভ্রমণ কারী দল।
|
তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছেনঃ দ্বীপক চন্দ্র সরকার(সহকারী প্রধান শিক্ষক ও স্কাউটস ইউনিট লিডার, বৈরাতী উচ্চ বিদ্যালয়।)
তথ্য সংগ্রহ ও ছবি ঃ খালিদ হাসান
No comments