পঞ্চগড়ে প্রচণ্ড দাবদাহ, বৃষ্টির জন্য হাহাকার
প্রচণ্ড দাবদাহে পঞ্চগড় জেলায় আমন ধানের চাষাবাদে বিপর্যয় দেখা দেয়ার পাশাপাশি সর্বক্ষেত্রে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১০ দিন ধরে বৃষ্টিপাত না হওয়াসহ প্রয়োজনীয় বাতাসের অভাবে সূর্য্যের তাপে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা জনপথ। এতে ফ্যানের বাতাসও গরম অনুভূত হচ্ছে। খরা ও তাপে আবাদকৃত আমন ক্ষেত ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে। অনাবাদি জমিগুলোর ঘাস পর্যন্ত মরে যাচ্ছে। অবস্থাসম্পন্ন কোন কোন কৃষক শ্যালো মেশিন দিয়ে আমন চারা জমিতে রোপণের কাজ করলেও তেমন একটা লাভ হচ্ছে না। দ্রুত পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। দাবদাহের কারণে খুব প্রয়োজন ছাড়া লোকজন রাস্তাঘাটে চলাচল করছে না। খেটে খাওয়া মানুষগুলো পড়েছে চরম সমস্যায়। তারা মাঠ ও অন্যান্য শ্রমের কাজ ঠিকভাবে করতে পারছে না। চালাতে পারছে না রিকশা-ভ্যান। সবাই একটু ছায়ার আশ্রয় খুঁজছে। খুবই গরম হয়ে যাওয়ায় অল্প পানির নদী ও পুকুরের মাছ মরে ভেসে উঠছে। কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এ মাসের শুরুতে বৃষ্টিপাত হলেও গত ১০ দিনে মাত্র একদিন বৃষ্টি হয়েছে। ২৩শে জুলাই পঞ্চগড়ে গড়ে বৃষ্টি হয়েছিল মাত্র ৭ মিলিমিটার। তাদের হিসেবে এ মাসে বুধবার পর্যন্ত পঞ্চগড় জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ২০৬ মিলিমিটার। যা দ্রুতই শুকিয়ে গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় আকাশ কালো হয়ে হালকা বাতাস শুরু হলে অনেকেই ভেবেছিল রাতে ভারি বৃষ্টি হবে। কিন্তু সামান্য কয়েক ফোটা বৃষ্টি হয়েই মেঘ সরে গিয়ে ওঠে থালার মতো ফুটফুটে চাঁদ। পঞ্চগড় সদর উপজেলার গরিনাবাড়ি ইউনিয়নের ঠাটপাড়া গ্রামের সফিকুল ইসলাম জানায়, গত বছরের চেয়ে এবার তাপমাত্রা খুবই বেশি। রোদের তাপে তাদের কয়েক বিঘা জমির রোপা ধান পুড়ে গেছে। পানি হলে আবার রোপা ধান লাগাতে হবে। আটোয়ারী উপজেলার নলপুখুরী গ্রামের কৃষক মনোজ রায় হিরু জানান, চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় আমি মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে রোপা আমনের চারা লাগানো শুরু করেছি। এতে করে খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে। সে সঙ্গে আগে চারা লাগানো জমিতেও সেচ দিতে হচ্ছে। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত সেচকাজ চালাতে হবে। এত টাকা খরচ করে বাজারে লোকসান দিয়ে ধান বেচে কৃষিকাজ ছেড়ে দেয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। বোদা উপজেলার বেংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কৃষক দারাজ উদ্দিন জানান, গত বছর এই সময়ে আমার জমিতে আমন চারা লাগানোর কাজ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এবার বৃষ্টির অভাবে এখনও জমিতে চারা লাগানো শুরুই করতে পারিনি। আমি ৮ বিঘা জমিতে আমন চারা লাগানোর জন্য চারা তৈরি করেছি। আগামী ৫-৭ দিনের মধ্যে চারা জমিতে লাগাতে না পারলে সব চারা নষ্ট হয়ে যাবে। শ্যালো মেশিন দিয়ে সেচ দিয়ে চারা লাগালে খরচ অনেক বেড়ে যাবে। বাজারে ধানের যে দাম তাতে করে অতিরিক্ত খরচ করে ধান চাষ করার কোন আগ্রহ নেই। পঞ্চগড় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শ. ম আশরাফ আলী বলেন, আমন মওসুমে বৃষ্টি না হওয়ার কারণে তাপমাত্রাও বেড়ে গেছে। এতে করে জমির পানি শুকিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে পঞ্চগড় জেলায় লক্ষ্যমাত্রার শতকরা ৭৯ ভাগ জমিতে আমন চারা লাগানো হয়ে গেছে। বাকি জমিতে চারা লাগানোর জন্য ১৪৩টি গভীর নলকূপ ও ১,৫১০টি শ্যালো মেশিন দিয়ে জমিতে পানি দেয়া হচ্ছে। এখনও আমন চারা লাগানোর সময় আছে। তাই কৃষকদের ঘাবড়ানোর কিছুই নেই।

No comments