পঞ্চগড়ে বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি(সোমবার বিকাল)
পঞ্চগড়ের পাঁচ উপজেলায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ভারী বর্ষণের পাশাপাশি উজান থেকে নেমে আসা নদ নদীর পানিও কমতে শুরু করেছে। বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া বন্যা কবলিত মানুষজন ঘরে ফিরতে শুরু করেছে। তবে নদ-নদীর পাড়ের বাড়িগুলোতে এখনো পানি রয়েছে। তবে জেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অঘোষিত ছুটি চলছে।
আজ সোমবার বিকেল পর্যন্ত করতোয়া নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যায় রেলপথ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে পঞ্চগড়-দিনাজপুর-পার্বতীপুর রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
গতকাল রোববার রাত থেকে জেলার বিভিন্ন নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। আজ সকালে করতোয়ার পানি বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে দেখা গেছে। তবে আকস্মিক এ বন্যায় সরকারি হিসেবে এ পর্যন্ত পাঁচ উপজেলায় ৪৫ হাজার ৩০৫টি পরিবার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ৩০ হাজার দুর্গত মানুষ ১৫৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া জেলার ৩ হাজার ৩৭৫ হেক্টর আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
টানা বর্ষণ আর উজানের ঢলে প্লাবিত হয়েছে পঞ্চগড়-দিনাজপুর-পার্বতীপুর রুটের রেললাইন। প্রবল স্রোতের তোড়ে ঝলই শালশিরি এলাকার নয়নিবুরুজ স্টেশন থেকে কিসমত স্টেশন পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার রেলপথের পাথর সরে গেছে (ওয়াশ আউট)। গর্ত সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন স্থানে। এতে পঞ্চগড় থেকে ঢাকা রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিম জোনের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বালুর বস্তা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ সংস্কারের চেষ্টা করছে রেল বিভাগ।
রেলের (পশ্চিম জোন) বিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফুর রহমান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি স্লুইসগেট গেট দিয়ে পানি অপসারণ না হওয়ায় পঞ্চগড় এলাকার প্রায় দুই কিলোমিটার রেলপথ ওয়াশ আউট (ক্ষতিগ্রস্ত) হয়েছে। পানি কমে গেলে দ্রুত সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।
জেলা প্রশাসক অমল কৃষ্ণ মন্ডল বলেন, ‘পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমরা জরুরিভাবে একটি আলোচনার আয়োজন করি। যাতে সমন্বয়ের মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ত্রাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
ছবি ঃ ইন্টারনেট

No comments