বাড়ির পথে বাসেই মৃত্যু ডেঙ্গু রোগীর, দেখা হলো না স্ত্রী-সন্তানের মুখ
ঢাকা থেকে হানিফ পরিবহনের একটি বাসে নড়াইলে বাড়ি যাওয়ার পথে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ইকরাম হোসেন (৪০) নামে এক যাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে কালনা ঘাটে পৌঁছানোর পর ওই যাত্রীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
মৃত ইকরাম হোসেন নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামের জব্বার শেখের ছেলে।
গত কয়েক বছরের মধ্যে রাজধানীসহ সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়ে সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। হাসপাতালগুলোতে বলতে গেলে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয়েছে। কারণ কোন জায়গায়ই বেড খালি নেই।ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে কাতরাচ্ছিলেন ইকরাম হোসেন।
ঢাকায় সেবাযত্ন করার কেউ নেই। তাই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। স্ত্রী-সন্তান থাকেন গ্রামের বাড়ি। ইকরাম ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানির সিকিউরিটি গার্ড। বুধবার (২৪ জুলাই) রাতে জ্বর নিয়েই নড়াইলের উদ্দেশে যাত্রা করেন। বাড়ি যাবেন। স্ত্রী-সন্তানকে দেখবেন।
তাদের সেবায় সুস্থ হয়ে ফের ঢাকায় আসবেন। এমন ভাবনাই হয়তো ছিল তার। কিন্তু স্ত্রী-সন্তানকে আর দেখা হয়নি তার। বাসের মধ্যেই তিনি ঢলে পড়েন মৃত্যুর কোলে। লাশ হয়ে ফেরেন বাড়িতে।
এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী বাসের যাত্রীরা। বুধবার বাড়ির পথে রওনা দিয়ে পাশের যাত্রী ও বাসের সুপারভাইজারের সঙ্গে কথাও বলেছেন। কথা বলেছেন, দৌলতদিয়া ঘাট পার হয়েও।
কিন্তু ভোরে কালনা ফেরিঘাটে পৌঁছে আর সাড়া মেলেনি তার। পাশের যাত্রী ভাবছিলেন তিনি ঘুমিয়ে পড়েছেন। কিন্তু এই ঘুমই যে তার শেষ ঘুম, তা কেই-বা জানতো?
ডেকেও যখন তার ঘুম ভাঙেনি, তখন গায়ে হাত দেয়া হয় ইকরামের। আর সেসময়ই বুঝা যায়, তিনি আর নেই। চলে গেছেন না ফেরার দেশে।
এ ঘটনায় বাসের অন্যান্য যাত্রীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। ইকরাম হোসেন নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামের জব্বার শেখের ছেলে। তার স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে গ্রামের বাড়িতে থাকে।
মৃত ইকরাম হোসেনের চাচাতো ভাই কবির হোসেন জানান, ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হলে দেখাশোনার কেউ না থাকায় তিনি অসুস্থ্য অবস্থায় বুধবার রাতে ঢাকার আবদুুল্লাহপুর থেকে হানিফ পরিবহনে উঠেন।
হানিফ পরিবহনের নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ কাউন্টারের ম্যানেজার আকবর মন্ডল বলেন, ডেঙ্গুরোগে আক্রান্ত ওই যাত্রী দৌলদিয়া ঘাটে পৌঁছানোর পরও কথা বলেছেন।
কিন্তু কালনা ফেরিঘাটে পৌঁছানোর পর তার কোন সাড়া পাওয়া যায়নি। অন্যান্য যাত্রীরা তার গায়ে হাত দিয়ে দেখেন তিনি মারা গেছেন।

No comments