Breaking News

ইন্টারনেটের সাতকাহন (৩য় অংশ)


লেখার আজকের অংশে আমরা জানবো ইন্টারনেটের অদ্ভুত কিছু কাজ নিয়ে। যেটা আপনি আমি কখনো চিন্তাও করিনি।
পুরো ইন্টারনেটের মাত্র ৩০% এর কিছু বেশি আমরা জানি বা ব্যবহার করে থাকি। এখন নিশ্চই মনে প্রশ্ন উঠছে তাহলে এটা আবার কেমন কথা? আমি তো অনেক কিছুই জানি। বাকি ৬০% এর বেশি তাহলে কি? কে ব্যবহার করে? কি কাজে ব্যবহার করে তারা?
আমরা যে জগতের সাথে পরিচিত সেটা হল ভিসিবল ওয়েব আর যা জানি না সেটাই হল ডিপ ওয়েব বা ডার্ক ওয়েব । ছবিটা দেখে হয়তো কিছু অনুমান করে ফেলেছেন। চলুন তাহলে কথা না বলে জেনে আসা যাক;

ডার্ক ওয়েবঃ

ডার্ক ওয়েব হল ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব উপাদান যা ডার্ক নেটে বিদ্যমান। আচ্ছাদিত নেটওয়ার্ক, যা পাবলিক ইন্টারনেট ব্যবহার করে কিন্তু এতে প্রবেশ করতে নির্দিষ্ট সফটওয়্যার, কনফিগারেশন বা অনুমোদনের প্রয়োজন হয়।  ডার্ক ওয়েব ডিপ ওয়েবের একটি অংশ মাত্র, সে অংশ সাধারন সার্চ ইঞ্জিন ইন্ডেক্স করতে পারে না। যদিও কখনও কখনও "ডিপ ওয়েব" শব্দটি ভুল করে ডার্ক ওয়েবকে বোঝাতে ব্যবহার করা হয়।
ডার্ক ওয়েবকে গঠনকারী ডার্কনেটে থাকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ফ্রেন্ড-টু-ফ্রেন্ড, পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্ক, সেইসাথে থাকে ফ্রিনেট, আইটুপি ও টরের মতো বড় বড় নেটওয়ার্ক, এবং এসব নেটওয়ার্ক পরিচালিত হয় পাবলিক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের দ্বারা। ডার্ক ওয়েব ব্যবহারকারীরা তাদের এনক্রিপশনবিহীন প্রকৃতির কারনে সাধারন ওয়েবে ক্লিয়ারনেট হিসাবে পরিচিত। টর নেটওয়ার্ক অনিয়ন ল্যান্ড হিসাবেও পরিচিত, এর কারন ডিপ ওয়েবের একটি উচ্চ পর্যায়ের ডোমেইন সাফিক্স ডট অনিয়ন এবং নিজেকে আড়াল করে ইন্টারনেট ব্যবহার করার পদ্ধতি অনিয়ন রাউটিং। সবচেয়ে দামী ডিপ ওয়েবসাইটের নাম White Wolves ও C’Thulhu ।

এখানে কি কি হয় তা এই ছোট লেখার মধ্যে লিখে শেষ করার মত না। অনেকে হয়তো ফ্রিল্যান্সিং করেন বা প্রক্রিয়াটা চিনে থাকবেন। বিভিন্ন সাইটে যেভাবে কাজ অফার করা হয় বা কাজ খোজা হয় এখানেও এরকম পদ্ধতিতেই হয় সব কিছু হয়। যা জানলে আপনার গা সিউরে উঠবে আমি নিশ্চিত। চাইলে আপনারা গুগল বা উইকিপিডিয়া তে খুজে দেখতে পারেন।


মেইল দিয়ে অর্ডার করুন মারিজুয়ানাঃ

গাঁজার নৌকা পাহাড়তলি যায়- এই অদ্ভুত গানটি তো শুনেছেন? ঠিক তেমনই
আপনায় গাঁজার রাজ্যে স্বাগতম জানাতে পারে ডিপ ওয়েব। কোন লুকোচুরি নেই, নেই ঠাণ্ডার মাঝে ঝুঁকি নিয়ে কোন ড্রাগ ডিলারের জন্য অপেক্ষা করার ঝামেলা, নেই কোন দর কষাকষি বা নিম্নমানের আশংকা। অর্ডার করুন ঘরে বসে নিজের পছন্দমত পরিমানে নির্দিষ্ট দামে। পেয়ে যান গোল্ডেন নাগেট নামে কুখ্যাত এই মাদক,আর ভাবছেন আপনার হাতে কি করে পৌঁছাবে? পৌঁছে যাবে কোন নির্জন যায়গায় ড্রপ আউট কুরিয়ারের মাধ্যমে অথবা ডি এইচ এল এর মত কুরিয়ার সার্ভিসে( অবশ্যই ভ্যাকুয়াম সিলড প্যাকে বহু প্যাকিং এর ছদ্মবেশে)। আপনার কাছে পৌঁছে যাবে ড্রপ আউট পয়েন্টের জিপিএস লোকেশন। ভাবছেন কিভাবে পেমেন্ট করবেন ডিপ ওয়েবে? তার জন্য ব্যবহৃত হয় বিট কয়েন পলিসি।এটি একটি আনট্রেসেবল অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতি।


সিল্ক রোডঃ

বড় বড় অনলাইন মার্কেট আমাজন বা ই -বেয় এর সাথে তো কম বেশি আপনারা সবাই পরিচিত। ঠিক তেমনি ডিপ ওয়েব এর বিশাল অনলাইন ড্রাগ ও কেমিক্যাল মার্কেট হচ্ছে ‘সিল্ক রোড’। যে কোন কেমিক্যাল বা ড্রাগ অর্ডার করুন, পেমেন্ট করুন বিট কয়েনে, কিছুদিনের মধ্যে আপনার হাতে পৌঁছে যাবে
আনট্রেসেবল প্যাকেজ। শুধু ড্রাগ বা ক্যামিকেল নয়, সিল্ক রোডে পাওয়া যায় না এমন কিছুর সম্ভবত অস্তিত্ব নেই। অদৃশ্য ক্রেতা-বিক্রেতার সবচেয়ে জনপ্রিয় মিলনস্থল হচ্ছে সিল্ক রোড। এখানে পন্য বিনিময়ের সাকসেস রেট ৯৭% শতাংশ। যে কোন জিনিস প্রাপ্তির জন্য এরা এমন একটি সিস্টেম ডেভেলপ করেছে যে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকটা কিংবদন্তীর রূপ ধারন করেছে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে শুরু হওয়া এই ডিপ ওয়েবসাইট আজ পর্যন্ত কোনভাবেই আইনের আওতায় অথবা নিয়ন্ত্রনাধীনে আসেনি। যেখানে একে বলা হচ্ছে ড্রাগের
 সবচেয়ে বড় মার্কেট।


ভাড়া করতে চান খুনি?

ভাবছেন ভুল শুনলেন নাকি? না আপনি ঠিকই শুনেছেন। ডিপ ওয়েবে খুনিও ভাড়া করা যায়। আপনি কারো বেইমানিতে অসন্তুষ্ট। আপনার গার্ল ফ্রেন্ড বা স্ত্রীর উপর ক্ষিপ্ত, কোন সাংবাদিক অথবা ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাইছেন। জনাব আপনি ঠিক জায়গাতেই এসেছেন যার নাম ডিপ ওয়েব সাইট। আপনার টাকা আপনাকে দেবে ক্ষমতা। শুনতে নাটকীয় বা ভয়াবহ শুনালেও এসবই সত্যি। কোন কাল্পনিক গল্পের অস্তিত্ব এখানে নেই। কন্ট্রাক্ট কিলিং এর সবচেয়ে নিরাপদ মাধ্যম নামেই পরিচিত এটি।


 মানুষের উপর গবেষণাঃ

ভাবতেও শিউরে উঠতে হয় যে ডিপ ওয়েবে এমন সাইট ও রয়েছে যেখানে
মানুষের উপর গবেষণার কথা বলা হয়ে থাকে। সাধারনত ছিন্নমুল মানুষের উপর এইধরনের মেডিকেল এক্সপেরিমেন্ট চালানো হয়ে থাকে। এই সকল মানুষের খোঁজ করার কেউ নেই তাই গবেষণায় এদের মৃত্যু হলেও কারো কিছুই এসে যায় না। এটি এক পারফেক্ট ক্রাইম ঠিক যেন এক পৈশাচিক গল্প তবু বাস্তব। রাস্তা থেকে তুল আনা এসব মানুষ হয় স্যাডিজম এর শিকার। কি বলবো এদের সম্পর্কে, কি বলবো তাদের যারা এই ধরণের গবেষণায় লিপ্ত? একটি নমুনা দেখুন তাদের বিজ্ঞাপনেরঃ-
গবেষকরা যেভাবে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেঃ

"আমরা সবাই মেডিকেল পার্সোনেল। আমাদের টিমে রয়েছে ৩ জন নার্স, ৬ জন মেডিকেল শিক্ষার্থী, ২ জন ইন্টার্ন ও ২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। আমরা আমাদের অবসর সময়ে গবেষণা চালাই। আমাদের টেস্ট সাবজেক্ট নির্ধারিত সেলে বন্দী অবস্থায় থাকে, প্রয়োজন অনুসারে খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়। পুষ্টি গুন বিচারের প্রশ্ন ওঠে না কারণ কেউই তারা বাঁচবে না। ভাবুন এই
মেধাবীদের নিয়ে?

এছাড়াও তারা যে কাজ গুলা করে থাকে তা হলঃ ক্রেডিট কার্ড ইনফরমেশন, বেটিং/ ম্যাচ ফিক্সিং স্পট, অস্ত্র-কেনা বেচা ইত্যাদি।


বর্তমান পরিস্থিতিঃ

যদিও বলা হয়েছিলো যে ডিপ ওয়েবে সহজে কেউ ঢুকতে পারে না। তবে আইন রক্ষাকারী সংস্থা একটু হলেও ডিপ ওয়েবে নাক গলাতে সমর্থ হয়েছে যার প্রমাণ পাওয়া যায় ২০১৪ সালের আগস্টে যে সময় প্রায় ৫০% শতাংশ লুকোনো ডিপ ওয়েবসাইট অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলো যা ছিলো  আয়ারল্যান্ড এর এক হোস্টিং
 অপারেশনের ফলাফল।
একই  ধরণের আরেক অপারেশনে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক গ্রেফতারের শিকার হয় এক আইরিশ এরিক ওয়েন মারকুইস যাকে ডিপ ওয়েব ব্যবহার করে শিশু পর্ণ ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়।


খারাপ দিকঃ

বেয়াইনী জিনিষ পত্র অনেক টা খোলাখুলি ভাবেই রাখা এখানে। চিন্তা করতে পারেন অস্ত্র, বোমা বানানোর সিস্টেম, মাদক দ্রব্য সব যদি অনলাইনে কিনেই নিতে পারেন, তাহলে অবস্থা কি ভয়ানক হবে ?
খুব সুরক্ষিত তথ্য বা কপিরাইট প্রটেক্টেড অনেক কিছুই এখানে পাওয়া সম্ভব। কম্পানীর কিছু করার নাই, কার নামে মামলা করবে ? এটা ডিপ ওয়েব বলে কথা।
ভাইরাসের ঘাটি। এখানে যারা কাজ করেন মোটামুটি সবাই খুব উচু মানের প্রোগামার, সো এদের ক্ষমতা খুবি বেশী। আপনার অজান্তে আর আপনি অসতর্ক থাকা মানে কখন আপনার পুরো কম্পিঊটার তারা নাড়াচাড়া করবে আপনি টের ই পাবেন না। ধোকা রাস্তা তো পাইলাম, ঢুকবো কোন এ্যাড্রেস এ ?
ডার্কওয়েবে আমাদের পরিচিত সহজ Fajlami বা radiomunna.com
  এর মত মফিজ নাম গুলো ব্যাবহার করা হয় না, ব্যাবহার করা হয় না .com .net
ডোমেইন । এখানের সব যেহেতু লুকিয়ে রাখা, সো আন্দাজ করে কোন সাইটে ঢোকা অসম্ভব অনেক ক্ষেত্রেই। ব্যাবহৃত হয় .onion নামে ডোমেইন, সাইট গুলোর এ্যাড্রেস হয় bnktdbea442afcujasye.onion এরকম । বুঝেন ঠ্যালা !  ( Onion মানে পেয়াজ , পেয়াজের মত অনেক আস্তরনে লুকিয়ে রাখা হয় বলে এমন নাম সম্ভবত )।


দরকারী দিকঃ

সরকারী গোপন তথ্য রাখতে সাহায্য করে। তবে জুলিয়ান এ্যাসেঞ্জের মত কেউ যদি আপনার পেছনে লাগে তাহলেই হবে কাজ। গোপনীয়তা বজায় রাখতে কোন বিকল্প নাই। ওয়েবসাইট এর পেছনে যারা কাজ করেন, তারা তো জানেন ই সাইটের ব্যাকএ্যান্ড লুকানো রাখা টা কতটা জরুরী।

আসলে এরকম একটা জিনিস জানার পর এমনি হাটু কাপা শুরু হয়ে যাবে একজন সুস্থ মানুষের। এর ভাল দিক নাই বললেই চলে। যা আছে তা হল, নিরাপদ এবং গভীর সাংবাদিকতা, বিশেষ করে মুক্ত দেশে নয়।
ধারণা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেয়া। কারণ আমাদের সবার জানার অধিকার আছে।

সত্য কথা বলতে কি, ইন্টারনেট জগতের একটা কালো অধ্যায় এটা।


কিছু ডীপ ওয়েব লিংক…

http://kpvz7ki2v5agwt35.onion/wiki/index.php/Main_Page – Hidden Wiki.
http://xqz3u5drneuzhaeo.onion/users/haruspex/sms/ – SMSbomber.
http://s6cco2jylmxqcdeh.onion/ – Cebolla-chan.
http://p2uekn2yfvlvpzbu.onion/ – Armas, entrenamiento militar etc.
http://xqz3u5drneuzhaeo.onion/users/zvc/imgboard/ – Tor4chan.(Peligroso)
http://clsvtzwzdgzkjda7.onion/ – Foro de Hacking, Phreaking, Cracking, etc.
http://4jbxjjrbakmdcmvb.onion/ – Paginas Variadas.
http://dppmfxaacucguzpc.onion/index….9e18f83ab9233d – Paginas variadas.

এসব নিয়ে কৌতুহল থাকা ভাল তবে এসবে জড়িয়ে পড়াটা বেশ খারাপ বলে মনে হয় আমার কাছে।
ওহ আরেকটা কথা। আপনি হয় উপরের লিংক গুলাতে একটু ঢু মেরে আসতে চাইছেন তাই না? ২-১ বার চেস্টাও করে ফেলেছেন হয়তো। আসলে আমাদের সাধারণ ব্রাউজার দিয়ে এসবে ঢুকা সম্ভব না কিন্তু। বলে দিলাম নাহলে আবার আমাকে গালি দিয়ে ফেলবেন। কেন সম্ভব না সেটা লেখার প্রথম দিকেই আলোচনা করা হয়েছে। যদিও এখন এন্ড্রোয়েড ফোন থেকেও এসব ব্রাউজ করা যায়।
শেয়ার করুন এবং আপনার বন্ধুদের পড়ার সুযোগ করে দিন।

লেখাঃ
খালিদ হাসান

2 comments: