Breaking News

যে কারণে বড় বন্যার আশঙ্কা


চলতি বছর মৌসুমি বায়ুপ্রবাহের গতিপ্রকৃতি ও বৈশিষ্ট্য ১৯৮৭, ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ওই তিন বছরই বাংলাদেশে বড় বন্যা হয়েছে। তাই এ বছরও বড় বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন কয়েকজন আবহাওয়াবিদ ও গবেষক।

আবহাওয়াবিদ ও গবেষকেরা বলছেন, এবারের মৌসুমি বায়ুর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গতিপ্রকৃতি ও প্রবাহের উৎসস্থল ভারত মহাসাগর। সেখান থেকে প্রবাহিত শক্তিশালী বায়ু দুই পথে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপাল অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এর একটি পথ বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল (সাধারণত টেকনাফ) থেকে স্থলভাগে প্রবেশের। অন্য পথটি সোমালিয়ার কাছ থেকে আরব সাগরের ওপর দিয়ে ভারতে প্রবেশের।

সাধারণভাবে জুনের প্রথম সপ্তাহে এই দুই পথে মৌসুমি বায়ু প্রবেশের পরই এই অঞ্চলে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। মৌসুমি বায়ু যতই বিস্তৃত হয়, ততই বাড়তে থাকে বৃষ্টিপাতের অঞ্চল। এ বছর এই মৌসুমি বায়ুর বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো দুই পথেই প্রবাহ অত্যন্ত শক্তিশালী এবং দুটি প্রবাহ একত্র হয়ে (ক্রস ইকুইটেরিয়াল ফ্লো) মৌসুমি বায়ুর অক্ষকে হিমালয়ের পাদদেশ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া।

গতকাল (১৬ আগস্ট) আবহাওয়া অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, এই ‘ক্রস ইকুইটেরিয়াল ফ্লো’র প্রভাবে মৌসুমি বায়ুর অক্ষ হিমালয়ের পাদদেশ থেকে ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত ও সক্রিয়। আবার এর বর্ধিত একটি অংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত ও সক্রিয়।

আবহাওয়া ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে গবেষণারত আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক সমরেন্দ্র কর্মকার বলেন, মূলত উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত এই অক্ষ ১১ আগস্ট থেকে হিমালয়ের পাদদেশীয় অঞ্চলে প্রবল বৃষ্টি ঝরাচ্ছে। ওই অক্ষভুক্ত অঞ্চলেই ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গা নদীর উৎস এবং অববাহিকা শুরু হয়েছে। ফলে ওই বৃষ্টির পানি গড়িয়ে এসে নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশে বন্যার কারণ হয়েছে।

সমরেন্দ্র কর্মকার বলেন, ১৯৮৭, ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালেও একই ঘটনা ঘটেছিল। ফলে ওই তিন বছর বাংলাদেশে বড় বন্যা দেখা দেয়। অবশ্য ওই তিন বছরই হিমালয়ের পাদদেশে মৌসুমি অক্ষের অবস্থান ছিল প্রায় দুই সপ্তাহ। ফলে অনেক দিন ধরে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে ১০-১১ আগস্ট থেকে। আরও বৃষ্টি হওয়ার মতো অবস্থা এখনো আছে। এবারও যদি হিমালয়ের পাদদেশে মৌসুমি অক্ষের অবস্থান আগের ওই বছরগুলোর মতো দীর্ঘায়িত হয় তাহলে বড় বন্যা হতে পারে। কারণ সেখানকার বৃষ্টির পানি সাগরে গড়ানোর পথ তো নেপাল-ভারত-বাংলাদেশের ওপর দিয়েই।

মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবনকেন্দ্রের (স্পারসো) একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, বায়ুমণ্ডলে বাতাসের গতি, চাপ ও প্রবাহের দিক প্রভৃতিতে কিছুটা তারতম্য দেখতে পাচ্ছেন তিনি। বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল অঞ্চলে পুবালি ও পশ্চিমা জেট বায়ু দুটিই প্রবল। পুবালি জেট বায়ুর অবস্থানের কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। উজানে হিমালয়ের পাদদেশের মতো উত্তর বঙ্গোপসাগরেও প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে।

স্পারসোর এই কর্মকর্তা বলেন, গত মঙ্গলবার থেকে উজানে বৃষ্টি বেশি হচ্ছে গঙ্গা অববাহিকায়। আর ব্রহ্মপুত্রের পানির স্তর ইতিমধ্যে সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। ফলে বড় বন্যার আশঙ্কা করাই যায়।

বিশিষ্ট পানিবিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আইনুন নিশাত বলেন, এবার আগস্ট-সেপ্টেম্বরে যে বন্যা হবে তা সবার জানা ছিল। পানিসম্পদমন্ত্রী সে কথা বলেছিলেন। তারপরও চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনায় এলোমেলো অবস্থা খুব দুঃখজনক। তিনি বলেন, এই বন্যা আরও সাত দিন, দশ দিন থাকবে। ঢাকা বন্যাকবলিত হলে পূর্ব ও দক্ষিণ দিকের অবস্থা খারাপ হবে।

সুত্র ঃ ব্লগ ও বিভিন্ন পত্রিকা

ছবি ঃ মেহেদি হাসান  

No comments