পঞ্চগড়ে প্রসূতি মায়ের করুণ মৃত্যু..! নবজাতককে দেখার মত কেউ নেই
পঞ্চগড়ে চিকিৎসার অভাবে কল্পনা আক্তার (১৮) নামে এক প্রসূতি মায়ের করুণ মৃত্যু হয়েছে। তিনি বোদা উপজেলার বড়শশী ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী।
জানা গেছে, নিজের অনাগত সন্তানের জন্য সংসারের খরচ থেকে তিলে তিলে জমা করেছিলেন টাকা। প্রসবের সময় যেন ভাল চিকিৎসা পাওয়া যায়, সেজন্য খুব যত্নে রেখেছিলেন জমানো টাকা। কিন্তু পরিবারের গাফেলতির জন্য চিকিৎসা সেবা না পেয়ে সন্তান জন্ম দিয়েই মৃত্যুবরণ করেন তিনি।
কাজীপাড়া গ্রামের স্থানীয়রা জানান, বিয়ের ৩ বছরের মাথায় প্রথম সন্তান গর্ভে ধারণ করেন কল্পনা। সন্তান প্রসব ও তার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দরিদ্র এই নারী সংসারের খরচ থেকে কিছু টাকা বাঁচিয়ে রাখতেন। সন্তান গর্ভে থাকার সময় তেমন কোন চিকিৎসা সেবা পাননি তিনি।
চিকিৎসকরা তার সন্তান প্রসবের দিন নির্ধারণ করে দেন ৯ সেপ্টেম্বর কিন্তু স্বামী ও পরিবারের লোকজনের গাফেলতির কারণে নির্ধারিত দিনে তার প্রসবের কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় পরবর্তীকালে ওই গৃহবধূর গর্ভাশয় ফেটে যায়। তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ার পরেও পরিবারের লোকজন জোরপূর্বক বাড়িতেই সন্তান প্রসব করান।এ সময় তিনি একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার এই অকাল মৃত্যু হয়েছে। নিজ সন্তানকে জন্ম দিয়েও নিজ সন্তানের মুখ দেখতে পেলনা কল্পনা।
পরে জেলা শহরের আব্দুস শহীদ বাবু নামে এক ব্যক্তির সহযোগিতায় ওই রাতেই নবজাতক শিশুটিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আব্দুস শহীদ বাবু জানান, চিকিৎসার অভাবেই ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। ‘ওই এলাকার স্থানীয়রা খবর দিলে আমি দ্রুত শিশুটিকে হাসপাতালে নিয়ে আসতে বলি। কিন্তু পরিবারের লোকজন রাজি হয়ে শিশুটিকে বাড়িতে রাখার চেষ্টা করে। পরে বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা শিশুটিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।’ গত ৩ দিনে পেরিয়ে গেলেও শিশুটির পরিবারের কেউ কোন খোঁজ খবর নেয়নি।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মনোয়ার হোসেন জানান, গ্রামের মানুষের অসচেতনতার জন্যই এমনটি হয়ে থাকে। সঠিক সময়ে ওই গৃহবধূটিকে হাসপাতালে ভর্তি করলে হয়তো বেঁচে যেতো। তবে নবজাতক শিশুটিকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। শিশুটি বর্তমানে ভাল আছে।
No comments