Breaking News

কোথায় গেল ব্লু হোয়েল ?



 

মনে আছে ব্লু হোয়েল বা নীল তিমির কথা?

নীল তিমি গেম, এছাড়াও "ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ" নামেও পরিচিত, এটি সামাজিক  যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত একটি নাম। বলা হচ্ছে বিশ্বের বেশ কিছু দেশে এই গেইমটি বিদ্যমান।২০১৩ সালে শুরু হয়। খেলাটি একটি সিরিজ নিয়ে গঠিত
৫০-দিনের মধ্যে অ্যাডমিনিস্ট্রেটরদের দ্বারা খেলোয়াড়দের জন্য নির্ধারিত কার্য
সময়ের সাথে, চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জের সঙ্গে প্লেয়ার আত্মহত্যা করে বা করতে বাধ্য করা হয়।

"নীল তিমি" মে ২০১৬ তে   আলোচনায় এসেছিল রাশিয়ান সংবাদপত্র, Novaya Gazeta এ। বলা হয়েছিল যে অনেক লিঙ্ক গ্রুপ "F57" সদস্যপদ বা সদস্যহীন শিশুদের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে তাদের আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে বা প্ররোচনা করছে।

 কিন্তু রাশিয়ান ভিত্তিক VKontakte সামাজিক নেটওয়ার্ক দাবী করে এসব লিঙ্ক অস্তিত্বহীন এবং কেউই নাকি আত্নহত্যা করেনি।

এখন আসা যাক এই গেইমের প্রতিষ্ঠাতার কথায়। যার নাম ফিলিপ বুদেকিন। যে নিজেকে এই গেইমের মালিক দাবী করে। ২১ বছর বয়সী বুদেকিন রাশিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞানে পড়ছিল এবং তাকে সেখান থেকে বহিস্কার করা হয়। বলা হয় সে ২০১৩ সালে ব্লু হোয়েল আবিস্কার করে। ২০১৬ তে তাকে যখন পুলিশ গ্রেফতার করে তখন সে বলে যে সে আসলে সমাজকে পরিচ্ছন্ন করতে চায়। যারা একটি খেলার জন্য জীবন দিতে পারে তাদের বেচে থাকার কোন দরকার নেই। সে জন্যই এটা বানিয়েছে সে।

সে পুলিশের কাছে দাবী করে তার এই গেইম খেলে ১৬ জন তরুণ-তরুণী আত্নহত্যা করে(সেই সময়ে)। কিন্তু অনেকেই তার কথা মানতে নারাজ। কারণ রাশিয়াতে প্রতি বছর অন্যান্য দেশের তুলনায় আত্নহত্যার পরিমাণ এমনিই অনেক বেশি। তারা এটাকে স্বাভাবিক মনে করছেন। তার গ্রেফতারের পর সারা বিশ্বে এটা নিয়ে হৈ চৈ শুরু হয়ে যায়। ইন্টারনেটে এটা নিয়ে অনেক লেখালেখি শুরু হয়। বিশেষ করে ফেইসবুকের মত সামাজিক মাধ্যম গুলাতে।
গুগল বলছে ইন্টারনেটে ব্লু হোয়েল খোজার তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। যা আমাদের জন্য বেশ হতাশাজনক। এর মধ্যেই অনেক টিভি এবং পত্রিকায় দেখেছি বাংলাদেশে এই খেলায় আসক্ত হয়ে বেশ কিছু স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছেলে মেয়ে আত্নহত্যা করেছে এবং তাদের হাতে তিমির ছবি আকা ছিল। কিন্তু মজার ব্যপার হল পুলিশ তাদের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোনে এই গেইমের কোন অস্তিত্ব পায়নি। সুতরাং আমরা বাংলাদেশে এসবকে গুজব বললেও কম বলা হয়ে যাবে।




একটা নমুনা মাত্র,
কিছুদিন আগে এর প্রভাব কি ছিল যা আপনাকে বলতে হবেনা আমি নিশ্চিত। আমিও অনেক বন্ধুদের কাছ থেকে অনেক রকম মেসেজ পেয়েছি যেটা সবাইকে পাঠাতে বলা হয়েছে। এছাড়াও বিটিআরসি এর নাম করেও ভুয়া মেসেজ পাঠানো হয়েছে এবং বলছে সেদিন রাত ১০-১২ টার মধ্যে সবার ফোনে এই গেইম ইন্সটল হয়ে যাবে তাই সবাই যেন ফোন বন্ধ রাখি। এ তো আমার কথা বললাম আপনাদের কাছে হয়তো এর থেকেও বেশি কিছু এসেছিল।

পরে অবশ্য বিটিআরসি নিশ্চিত করে যে এটা তারা প্রকাশ করেনি।  এই গেইমের জন্য প্রত্যেক মা বাবা দুশ্চিন্তার মধ্যে ছিলেন। নিজের সন্তান কি গোপনে খেলছে এই ঘাতক গেইম? আরো কত কি যে চিন্তা করেছেন তারাই বলতে পারবেন। এটাই স্বাভাবিক। মোট কথা সেই সময়ে ব্লু হোয়েল ছিল টপিক অফ দ্যা কান্ট্রি। পুরা দেশ যেন ব্লু হোয়েল জ্বরে আক্রান্ত ছিল কিছু দিনের জন্য। অবশ্য এখন সেটা নেই কিন্তু আলোচনা এখনো থেমে নেই।

অনেকেই বলেছে সে নাকি এই গেইম খেলেছে এবং এত গুলা লেভেল বা টাস্ক শেষ করেছে। আসলে সে তো এটা খুজেই পায়নি আর খেলবে কিভাবে?

তবে একটা কথা না বললেই নয় সেটা হল অনেকেই বলছিল যে এটা নাকি ডারক বা ডিপ ওয়েবে পাওয়া যায়। এই কথা টা ফেলে দেয়া যায়না। কিছুটা ভেবে দেখা দরকার। কিছুদিন আগে ইন্টারনেটের সাতকাহন নামের একটি ধারাবাহিক প্রকাশ করেছিলাম সেখানে এ ব্যপারে বিস্তারিত বলেছি তাই এখানে আর বলছি না। আচ্ছা এবার আসল কথায় আসা যাক, ডীপ ওয়েবে ঢুকার জন্য আপনাকে কিছু নিয়ম মেনে ঢুকতে হবে যা আপনার আমার পক্ষে সম্ভব না। সেখানে কেবল বিশেষ কিছু মানুষ যেতে পারে তাই আমাদের দেশের কচি কাচা ছেলে মেয়ে গুলা যে যেতে পারবে আপনার বিশ্বাস হয়? আর প্রযুক্তিতে আমাদের দেশ যে কতটা এগিয়ে সেটা বলার অপেক্ষা থাকেনা। আচ্ছা মানলাম কোন ভাবে ঢুকতে পারল তারা। কিন্তু সেখানে কোন লিঙ্কে বা কোন কিছু নিতে হলে আপনাকে পে করে তারপর আপনার কাজ করতে পারেবেন। আপনারা জানেন যে সেখানকার হিসাব হল বিট কয়েন। নামটা শুনে হয়ত ভাবছেন এটা তো কিনতে হয় তাহলে তো কিনেই ঢুকতে পারবে। এবার আসল কথা শুনেন তাহলে, এক বিট কয়েনের মূল্য বাংলাদেশি টাকায় প্রায়  ৪৫৯৯০৩.৮৩ টাকা!
 কি অবাক হলেন? হুম এটাই সত্য। তাহলে এখন কি মনে করছেন? বাংলাদেশের কেউ কি আদৌ খেলেছে এই নীল তিমি? এই কথা গুলা শুধু আপনার আমার মুখে আর মিডিয়াতেই শোনা যাচ্ছিল। এর কোন প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি। যে কয়েকটা আত্নহত্যার ঘটনা হয়েছিল সেই সময় আমাদের দেশে সব ভিক্টিমের হাতে তিমি আকা ছিল।  কিন্তু আপনি তো জানেন যে খেলা শুরুর ৫০ তম ধাপ হচ্ছে উচু দালান থেকে লাফ দিয়ে আত্নহত্যা। আর হাত কেটে তিমি আকতে বলা হয় ৩০-৩৫ তম ধাপের মধ্যে। তাহলে আত্নহত্যার সময় কিন্তু তিমির ছবি এত পরিস্কার থাকবেনা। ঘা কিছুটা হলেও শুকিয়ে যাবার কথা। আর বাংলাদেশের এমন পরিবার আছে বলে আমার মনে হয়না যে বাবা মা ছেলে মেয়ে সবাই আলাদা থাকে।  মানে ভিক্টিম একা থাকেনা। কারো সাথে তো থাকেই। তাহলে এসব নিশ্চই তাদের চোখে পড়বে। অভিভাবক সব জেনেও চুপ থাকবেন? জানি এসব প্রশ্নের কোন উত্তর নেই কারো কাছে।

আপনারা জানেন যে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত একটি আইন ও করে ফেলেছে, এই গেইমের কোন লিঙ্ক যেন না ছড়ায়। যদিও এটা অনেক টা হাস্যকর লেগেছে আমার কাছে। আমি কাউকে ছোট করে বলছিনা।  আমাদের দেশের অনেক তথ্য প্রযুক্তিবিদ রয়েছে। তাদের মতে বাংলাদেশে এই নীল তিমির কোন অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি কোথাও। সুতরাং ভয় পাবার কোন কিছু নেই আর।

আপনাদের মনে হয়তো একটা প্রশ্ন ঘুরপাক করছে, যে গেইমটা বানাল সে কি খেলেনি? যদি শেষ ধাপ হয় আত্নহত্যা তাহলে ফিলিপ বুদেকিন এখনো বেচে আছে কিভাবে? আর বাকি এডমিনরা? যারা গোপনে কলকাঠি নাড়াচ্ছে তারা বেচে আছে কিভাবে?  এই প্রশ্নের উত্তর আপনাদের নিজের কাছেই আছে। সাথে আরেকটা ব্যপার পরিস্কার হয়ে গেছে আশা করি আর এই গেইমের অস্তিত্ব নিয়েও যদি কোন প্রশ্ন থেকে থাকে তাহলে তার উত্তরটাও পেয়েছেন এতোক্ষ্ণে।

তবে একটা কথা বার বার বলতে চাই যে নিজে সচেতন থাকুন এবং সবসময় সত্যটা জানার চেষ্টা করুন। আর বাংলাদেশে যেসব আত্নহত্যার ঘটনা ঘটেছে
এগুলার পেছনে যে সন্ত্রাসীরা ব্লু হোয়েলকে ব্যবহার করেছে বুঝতে পেরেছেন হয়ত। এই গেইমের গুজবকে ব্যবহার করেছে। কারণ তারা আপনার থেকে বেশি জ্ঞান নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। আপনাকে আমাকে বোকা বানানোর ব্যবস্থা তো আমরাই করে দিয়েছি তাদের। কারন এখন হাতে একটা পুটি মাছের ছবি থাকলেও আমরা সেটাকে তিমি ভেবে নিচ্ছি আর সবাইকে জানাচ্ছি ছেলেটা ওই গেইম খেলতো।

 আপনাদের কাছে এই বিষয়টা আরো পরিস্কার করার জন্য নিচে আরো কিছু রেফারেন্স তুলে ধরছি। সবার সাথে শেয়ার করুন।

আরো দেখতে নিচের লেখাতে ক্লিক করুন।
আরো দেখুন...
অনুসন্ধানী ভিডিও দেখুন...


No comments