Breaking News

বিশ্ব এইডস দিবস আজ


প্রায় দুই দশক ধরে দেশে এইডসের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির নানা কার্যক্রম থাকলেও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গীর পরিবর্তন না হওয়ায় শনাক্ত করা যাচ্ছে না আক্রান্ত সবাইকে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫ হাজার এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান মিললেও স্বাস্থ্য অধিদফতরের ধারণা, প্রকৃত সংখ্যা   প্রায় ১২ হাজার। পরিবার ও সামাজিক সম্মানের কথা ভেবে এখনও বেশির ভাগ এইডস রোগি নিজেদের চিকিৎসার বাইরে রাখছেন। না জেনেই, আক্রান্ত করছেন নতুন অনেককে। এ নিয়ে নানা আয়োজনে আজ উদযাপন করা হচ্ছে বিশ্ব এইডস দিবস।

বাঁচার জন্য এই আকুতি। এখানে হাসপাতালের বিছানায় যারা শুয়ে আছেন তারা প্রত্যেকেই নিজেদের শরীরে বহন করছেন এইচআইভি ভাইরাস। শিরায় মাদক নেয়াসহ নানা কারণে তারা আজ এইডসে আক্রান্ত। একটু একটু করে নিভে যাচ্ছে জীবন প্রদীপ।

ছোট্ট এই মেয়েটি মাধ্যমিক স্কুলের গন্ডি পেরিয়েছে মাত্র। এইচআইভি পজিটিভ প্রবাসী বাবার কারণে জন্মসূত্রে মেয়েটিও বহন করছে সেই ভাইরাস। একই রোগে ভুগে মারা যান মেয়েটির মা ও। প্রবাসী স্বামীর কারণে তিনিও আক্রান্ত হয়েছিলেন এইডসে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, দেশে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ৭০০ জন। ২০১৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে ৪ হাজার ৭শ’ ২১। এর মধ্যে পুরুষ ৩ হাজার ১শ’ ৪২ ও নারী ১ হাজার ৫শ’ ৭৯ ও শিশু ৩শ’ ৪৩ জন। কেবল ২০১৬ সালেই শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ৫শ’ ৭৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩৭৭, নারী ১৯০ ও হিজড়া ১১ জন।

চিকিৎসকরা জানালেন, দেশে এইআইভি আক্রান্তের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শিরার মাধ্যমে মাদক গ্রহণকারীরা। এরপর প্রবাসীরা। আর শনাক্ত না হওয়া এইডস রোগিদের মাধ্যমে নতুনভাবে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এইডস আক্রান্তদের শনাক্ত করতে না পারা বা পরিচয় গোপন করার বড় একটি কারণ সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গী। প্রায় দুই দশক ধরে দেশে এইচআইভি’র বিরুদ্ধে প্রচারণা ও সচেতনতা কার্যক্রম থাকলেও দৃষ্টিভঙ্গীর খুব একটা পরিবর্তন হয়নি।

রাজধানীর সংক্রামক ব্যধি হাসপাতাল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এইচআইভি’র চিকিৎসা দেয়া হয়। কক্সবাজারেও চালু করা হয়েছে অস্থায়ী চিকিৎস কেন্দ্র। 

শিরায় মাদক গ্রহণকারীর সংখ্যা ৩৩ হাজার ৬৭ জন। রোগির সংখ্যা ৬১২জন। ঢাকায় ৫শ’ ৮৯জন।

No comments